‘‘ বয়স তো কেবল একুশ, এখন না পটালে কখন ’’ আমার সবচেয়ে পছন্দের একটি বিজ্ঞাপন। তাছাড়া ভালবাসার প্রতি আগে থেকে তেমন কোন আগ্রহ ছিল না কিন্তু বিজ্ঞাপনটি দেখার পর থেকে আমার চিন্তায় চলে এলো ভালবাসা নামক এ শব্দ। মনে মনে ভাবলাম যে ভাবেই হোক আমাকে ভালবাসতে হবে। তানা হলে বুড়া বয়সে ভীমরতি ধরতে পারে তখন সমাজে নানা রকম কথা শুনতে হবে।
কিন্তু একটা বড় সমস্যা আমি একজন কিন্ডারগার্টেন এর শিক্ষক তাছাড়া আমার উপজেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনে যুক্ত ফলে আমার ফেস একটা কমন ফেস। বড় ভাইয়ের কাছে জানতে পেলাম মেয়েরা ফেমাস বা সচরাচর দেখা যায় এমন কাউকে ভালবাসতে চান না।
বড় মুশকিলে পড়লাম কি যে করি ভাল আমাকে বাসতেই হবে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি পাগলামি করছি। আমি আসলে পাগল তানা হলে এমন করি। স্কুলের অনেক ছাত্র-ছাত্রীর বড় বোন আসতো দুএক জনকে ভালো লাগতো কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ালো মনষত্ব কারণ আমি শিক্ষক এটা করা আমার ঠিক হবে না।
মনকে আমি সান্ত্বনা দিলাম। আমি বড় হবো অনেক বড় দেশের জন্য সুনাম অর্জন করবো। তখন আমি আমার প্রিয়জনকে বেছে নিব। আর এটা চিরসত্য। আমি দেখতে তেমন ভালো না আর হ্যাঁ আমার পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ। ভাড়া বাসায় থাকি। অনেক কষ্ট করে কোনমতে বিএসএস পরছি। এটা সত্য পৃথিবীর সকল মেয়ে চায় একটু হ্যান্ডসাম বড় পরিবারের ছেলে। দুটির মধ্যে আমার একটিও নেই। তবে হ্যাঁ আমার আছে আত্মবিশ্বাস আর সামনে চলার দৃঢ়প্রত্যয়। যা কোন মেয়ের পছন্দের বিষয় হতে পারে না। ভালবাসা তো এতো সস্তা বিষয় না যে চাইলেই পাওয়া যাবে।
পাঠকবৃন্দ এটা আবার মনে করবেন না যে, আমি ভালবাসা ছাড়া আছি। ভালবাসি আমার প্রিয় মাকে। যার প্রতি আমার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা। তার ভালবাসা আমাকে এই অবস্থানে এনেছে। আমার ছোটবোন এবং আমার ঘরের ছোট সোনাপাখি। এগুলো ছাড়াও আমি অনেক ভালবাসা পাই আমার চারপাশের প্রতিবেশী আমার স্কুলের কলিক স্নেহের সকল ছাত্র-ছাত্রী।
দুঃখের বিষয় হলেও সত্য আমাদের জীবনে যখন সাফল্য আসবে তখন আসবে ভালবাসা। আর অন্য সময়ে আমাদের এ থেকে নিরাশ হয়ে থাকতে হয়।
ভাললাগাকে মাঝে মাঝে কোন সুন্দর অথবা কালো লাবণ্য কোন মেয়েকে। ব্যাস অতটুকুই পরবর্তীতে তার সাথে দেখা হয় কথা হয়না তবে তার ভাল কামনা করি । বারবার হয়তো দেখি এতটুকুই। এর বেশী আমাদের করার কোন সামর্থ্য থাকে না। অনেক সময় দেখতে পারি অন্য কোন ছেলে বন্ধু তার সঙ্গী। তবুও ভালবাসা থামে না এটাই বাস্তব। আমিও যদি মেয়ে হতাম তাহলে আমিও কোন হ্যান্ডসাম এবং বড় ঘরের ছেলেকেই আমি আমার জীবনসঙ্গী হিসাবে বেছে নিতাম।
মাঝে মাঝে মনটা যখন খুব খারপ হতো আমার কোন কোন এক ছাত্রকে নিয়ে আমি চলে যেতাম নদীর পাশে। নদীর পানি প্রবাহিত হওয়া দেখে মনটা ভরে যেত। অথবা আমার ছাত্রের কাছ থেকে শুনতাম ছড়া অথবা কবিতা না হলে আমার মোবাইল দিয়ে তুলতাম তার অসংখ্য মজার ছবি। এটাই আমার ভালবাসা। অনেক প্রকারের ভালবাসার মধ্যে এটা একপ্রকার ভালবাসা। আমার একটা লাভের বিষয় আছে আমাদের ভালবাসা দিবস ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৬৪ দিন। আর যারা ১টি দিন ভালবাসা দিবস পালন করেন তাদের চেয়ে আমি এদিক দিয়ে জয়ী। বিষয়টি অনেক মজার । তবে হ্যাঁ ভালোলাগে ভালোবাসার গান - ভালবাসি বড় ভালবাসি এর বেশী ভালবাসা যায়না.. ও আমার প্রাণ পাখি ময়না।
অথবা আমি তোমার মনের ভিতর একবার ঘুরে আসতে চাই আমায় কতটা ভালবাসা সে কথাটি জানতে চাই।
তবে হ্যাঁ আমার একদিন আসবে শুভদিন অথবা আমার সাফল্যের সময় যেদিন আমি আমার প্রিয় কোন স্থানে দুজন পাশাপাশি বসে সে আমার পানে আমি তার পানে অপলক দৃষ্টিতে অপলক হাসিতে দীর্ঘক্ষণ, অফুরন্ত সময় নিয়ে তাকে মনে মনে বলবো ‘‘ভালবাসি তোমায়’’
সে যদি আমার মনের ভাষা বুঝতে পারে তা হলে তো হয়েয় গেল। আর যদি না বুঝতে পারে তাহলে আমি বলবো সেই গানটি- চোখ যে মনের কথা বলে চোখে চোখ রাখা শুধু নয়, চোখের সে ভাষা বুঝতে হলে চোখের মতো চোখ থাকা চাই। চোখ যে মনের কথা বলে।
ভালো থাকবেন ভালো রাখবেন সবাইকে। ধন্যবাদ।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
আল জাবিরী
অসাধারণ'''''''''''''''''''''''''''''''''
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি
“মার্চ ২০২৬” সংখ্যার জন্য গল্প/কবিতা প্রদানের সময় শেষ। আপনাদের পাঠানো গল্প/কবিতা গুলো রিভিউ হচ্ছে। ১ মার্চ, ২০২৬ থেকে গল্প/কবিতা গুলো ভোটের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং আগামি সংখ্যার বিষয় জানিয়ে দেয়া হবে।